Pages

Wednesday, April 1, 2026

কুলাউড়ায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃ,ত্যু,তে শোকে স্তব্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় ডোবায় ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 



বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিগুলি গ্রামে ঘটে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা।

নিহত শিশুরা হলো ফটিগুলি গ্রামের আশিক আলীর ছেলে আতাউর রহমান ইমাদ (৮), সাহেব আলীর ছেলে লাবিউর রহমান লাবিব (৭) এবং দিঘলকান্দি গ্রামের শিপার আহমদের ছেলে জিসান আহমেদ (১২)। একই সঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া; স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্র হতে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের জমিতে পাঁচ শিশু একসঙ্গে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ইমাদ, লাবিব ও জিসান পাশের একটি পানিভর্তি ডোবায় পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।


কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় ফটিগুলি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোকের মাতম। একসঙ্গে তিনটি শিশুর প্রাণহানিতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

রাজনগরে ঝড়ে বিধ্বস্ত বসতঘর,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ অর্থ ও টিন সহায়তার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের

 



মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের দেওয়ান দিঘির পাড় এলাকায় আকস্মিক ঝড়ে একটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রবল ঝড় ও বজ্রপাতের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ভূক্তভোগি ঘরের মালিক নকুল কর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে  জানান,সকালে আমরা সবাই ঘরের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি ঘরের চালসহ পুরো উপরের অংশ ভেঙে উড়ে গেছে। ঘরের কোনো জিনিসপত্রই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন,পরিবারে আট সদস্য নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন এবং ঘর পুনর্নির্মাণে টিনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ইউএনও বিপুল সিকদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং দুই বান্ডিল টিন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হবে।

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছেন।

উল্লেখ্য,এর আগে রাজনগরের ঊষা কেজি স্কুল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় স্কুলটির জন্য তিন বান্ডিল টিন ও নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার।

স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ও স্থায়ী পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।