বিচার চাইতে আদালতে দুই ভাই, কিন্তু মামলা ধন-সম্পত্তির নয়।মামলা হলো মায়ের শেষ বয়সে কে মায়ের সেবা করবে তা নিয়ে।এই বিরল ইতিহাসটি রচনা করেছেন সৌদি আরবের দুই ভাই।
মহামারীর এই যুগে মানুষ সাধারণ ভাবে-ভাই-বোন আদালতে গেলে নিশ্চয়ই উত্তরাধিকার বা জমিজমা নিয়ে ঝগড়া।
কিন্তু সৌদি আরবের এই বাস্তব ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
একজন বৃদ্ধ মানুষ, হিজাম আল-গামিদি, নিজের ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
কিন্তু বিরোধ অর্থ নিয়ে নয়-বরং দু'জনেই মায়ের খোঁজখবর রাখা ও তাঁর সেবার দায়িত্ব নিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন।
হিজাম দৃঢ়ভাবে বলেন,তিনি সবসময় মায়ের যত্ন নিয়েছেন, মা ছাড়া তিনি নিজের জীবন কল্পনাও করতে পারেন না।
কিন্তু ছোট ভাই বলেন,"হিজাম এখন বয়সে বড়। তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত।মায়ের দায়িত্ব আমি নিতে চাই।”
আদালতের পরিবেশ মুহূর্তেই আবেগে ভারী হয়ে ওঠে।
দুই ভাই কাঁপা কণ্ঠে দাঁড়িয়ে শুধু একটি অনুমতি চাইছিলেন নিজেদের মাকে দেখাশোনা করার সম্মান।
বিচারক সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ে যান।
শেষ পর্যন্ত তিনি মাকে আদালতে আনতে বলেন এবং জানতে চান-
তিনি কার সঙ্গে থাকতে চান?
মায়ের উত্তর শুনে সবাই নিস্তব্ধ হয়ে যান।
তিনি বলেন-"আমি কাউকে বেছে নিতে পারবো না।আমার দুই ছেলে-আমার ডান ও বাম চোখের মতো।"
মা যেহেতু কাউকে বেছে নিতে পারলেন না, তাই বিচারক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন-ভাবলেন, যদি তাঁর ফয়সালা ভুল হয়, তবে আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবেন?পরে তিনি যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য হন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত ছোট ভাইয়ের পক্ষেই রায় দেন। কারণ সে তুলনামূলকভাবে কম বয়সী এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী।
রায় ঘোষণার মুহূর্তে আদালতে নেমে এলো গভীর নীরবতা।
হিজাম আর সামলে রাখতে পারলেন না নিজেকে-ভেঙে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।
তিনি ভয় বা রাগে কাঁদছিলেন না।
তিনি কাঁদছিলেন এই ভেবে যে, তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সুযোগটি হারিয়ে ফেলেছেন- মায়ের শেষ সময়গুলোতে তাঁকে সেবা করার সুযোগ,
বেহেশতের সেবার সুযোগ।
আর অন্যদিকে আমরা তথা এই যুগের মানুষেরা বৃদ্ধ মা-বাবাকে যত দূরে রাখা যায়, ততটাই দূরে রাখতে চেষ্টা করি নির্দ্বিধায়।
কেউ কেউ তো জমি দখল করার চেষ্টায় ব্যাস্ত
শ্রষ্ঠার কাছে আমরা কী জবাব দেবো...?
মাতৃভক্তির এই বিরল নিদর্শন থেকে আজকের সমাজ অবশ্যই শিক্ষা নেয়া উচিত।




No comments: